1. harezalbaki@gmail.com : Harez :
  2. khondakar.mithu@gmail.com : Shakil Ahmed : Shakil Ahmed
  3. focusbd.info@gmail.com : Mithu :
মঙ্গলবার, ০৮ জুন ২০২১, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন

দেশেফেরত ৪ লাখ অভিবাসীর মধ্যে প্রণোদনা ঋণ পেলো মাত্র ৫০৬ জন

প্রতিবেদক
  • সংস্করণ : শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২১
  • ২৪ বার দেখা হয়েছে

 বিশ্বব্যাপী করোনার প্রভাবে দেশেফেরত আসা ক্ষতিগ্রস্থ বাংলাদেশী অভিবাসী শ্রমিকের মধ্যে সরকার বিশেষ প্রণোদনা ঋণ দেয়ার ঘোষণা দেয়।

বিভিন্ন দেশ থেকে করোনাকালিন ৪ লাখের বেশি শ্রমিক ফেরত আসে। গত বছরের জুলাই মাস থেকে এখন পর্যন্ত ২০০ কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা ঋণের তহবিল থেকে ৬ মাসের বেশি সময়ে মাত্র ১০ কোটি টাকা এ পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিদেশে ক্ষতিগ্রস্তরা দেশে এসে যদি বৈধভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলেন তাহলে তাদের ঋণ দেওয়া হবে। এছাড়া, কেউ একজন বিদেশে কর্মরত আছেন এমন প্রবাসীর পরিবারের কোনও সদস্য ইচ্ছে করলে ব্যবসার জন্য ঋণ নিতে পারবেন। তাদের জন্যও সুদের হার চার শতাংশই। মূলত, করোনা সংক্রমণের কারণে চলতি বছরের ১ মার্চের পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফেরত আসা অভিবাসী কর্মীরা পাবেন এ ঋণ। অন্যদিকে, বিদেশে যে প্রবাসী কর্মী মারা গেছেন, তার পরিবারের যেকোনও একজন সদস্য এ ঋণ পাওয়ার জন্য যোগ্য হবেন। মাইগ্রেশন বিষয়ক প্রোগ্রামের প্রধান শরীফুল হাসান জানান, ৪ লাখের বেশি শ্রমিক বেশি এসেছে। এর মধ্যে থেকে মাত্র ৫০৬ জনকে এখন পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেয়া হয়েছে। এটা দুঃখজনক। আমরা আশা করবো এই ঋণ বিতরণে প্রক্রিয়া দ্রুত নেয়া হবে।

তিনি জানান, শুধু প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের একার পক্ষে এটা করা সম্ভব নয়। কারণ তাদের শাখা কম। আর যা আছে তা শহর পর্যায়। প্রবাসীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে। এ জন্য অন্য ব্যাংকগুলোর সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে বলে তিনি জানান।
শরীফুল হাসান জানান, কম প্রবাসীরা ঋণ পাওয়ার আরও কারণ থাকতে পারে তাহলো। এই ঋণের বিষয় প্রবাসীরা জানে না। এটা নিয়ে তেমন কোনো প্রচারণা চালানো হয়নি বা হচ্ছে না। অন্য আর একটি কারণ হচ্ছে প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাংকের ঋণ নেয়ার ভিত্তি রয়েছে। অনেকে এসব ঝামলায় যেতে চায় না।
তিনি আরও জানান, আমাদের সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বসেছিলো।

শরীফুল হাসান জানান, আমরা দেখেছি যে এসএমই খাতে সরকার যে প্রণোদনা ঋণ দেয়া ঘোষণা করেছে সেটা অনেক ব্যাংক দিতে বাধ্য হয়েছে। ফলে এসব অর্থ এনজিওর মাধ্যমে দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক চাইলে এনজিওগুলোকে কাজে লাগাতে পারে। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে যে কোনো উপায়ে প্রবাসীদেরকে দ্রুত ঋণ সুবিধা দেয়ার ব্যবস্থা করা হোক। কারণ তারা অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছে।
ব্যাংকটি ঋণ প্রাপ্তির যোগ্যতা হিসেবে নীতিমালায় বলা হয়, ১৮ বছর বয়সী আবেদনকারীকে ব্যাংকের শাখার আওতাধীন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। নীতিমালা অনুযায়ী, এক ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক। সরল সুদের এ ঋণের মেয়াদ হবে খাত অনুযায়ী এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে। গত বছরের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন খাতের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করেন। বিশেষজ্ঞ এবং সক্রিয়বাদী সংগঠনগুলো প্রণোদনা ঋণ প্রদানের এ অতি নিম্নমুখী ধারায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, গার্মেন্টসসহ অন্যান্য খাতে প্রণোদনা ঋণের সুদের হার মাত্র ২ শতাংশ হলেও ফিরে আসা অভিবাসী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে সুদের হার ৪ শতাংশ। ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে অন্যান্য নানা ধরনের বাধা রয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন অভিবাসী ও শরণার্থী-বিষয়ক বিশ্লেষক আসিফ মুনীর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী অভিবাসী শ্রমিকদের এ দুঃসময়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও মনোযোগী হওয়া উচিত। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই থেকে বিদেশফেরত প্রবাসীদের বিশেষ ঋণ সুবিধা দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

মোট ১১টি খাতে এ ঋণ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। খাতগুলো হচ্ছেÑ কৃষি ঋণ প্রকল্প, মাঝারি ধরনের কৃষিনির্ভর শিল্প ঋণ প্রকল্প, মুরগির খামার প্রকল্প, মৎস্য চাষ প্রকল্প, বায়োগ্যাস প্লান্ট প্রকল্প, সৌর জ্বালানিখাত প্রকল্প, তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর উদ্যোক্তা ঋণ প্রকল্প, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রকল্প, গরু মোটা তাজাকরণ প্রকল্প এবং দুদ্ধ উৎপাদনকারী খামার প্রকল্প।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের জারিকৃত সার্কুলারে ঋণ প্রাপ্তির প্রাথমিক যোগ্যতায় বলা হয়েছে, পূণর্বাসন ঋণ প্রাপ্তির জন্য আবেদনকারীকে বিদেশ প্রত্যাগত হতে হবে এবং তার বৈধ কাগজপত্র থাকতে হবে। পুনর্বাসন ঋণ প্রাপ্তির জন্য আবেদনকারীকে প্রবাস প্রত্যাগমনের ৫ বছরের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীর বৈধ ব্যবসা বা প্রকল্পটি প্রাথমিকভাবে শুরু করার পর আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীর আর্থিক সংগতি যেমন জামানতের জন্য গ্যারান্টিকৃত সম্পত্তি নিজ নামে বা পিতার নামে থাকতে হবে। ঋণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদিসহ জীবন বৃত্তান্ত প্রদান করার পর তা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহিত হলে ঋণ প্রদান করা হবে। কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রাথমিক আবেদন গৃহিত হলে ঋণ সম্পর্কিত মূল ফরমটি পূরণ করে জমা দিতে হবে। ঋণ গ্রহণকালে জামানতকৃত সম্পত্তির মালিকানার দলিলাদিসহ অন্যান্য কাগজপত্র প্রদান করতে হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর