1. harezalbaki@gmail.com : Harez :
  2. khondakar.mithu@gmail.com : Shakil Ahmed : Shakil Ahmed
  3. focusbd.info@gmail.com : Mithu :
মঙ্গলবার, ০৮ জুন ২০২১, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন

বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগ বাড়ছে ডিজিটাল বিনোদনে

প্রতিবেদক
  • সংস্করণ : শনিবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২১
  • ২৪ বার দেখা হয়েছে

বিশ্বব্যাপী নিবারণহীন ও নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে বিনোদন কেন্দ্রগুলো হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিনোদন পিয়াসীরা জীবন বাঁচাতে ঘরবন্দি হয়ে যায়।

এসময় তারা ঘরে বসে সহজে যে বিনোদন উপভোগ করা যায়, তার প্রতিই ঝুঁকে পড়েন। লকডাউনের কারণে সিনেমা হলও বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রযুক্তি সংস্থাগুলো ডিজিটাল মাধ্যম নিয়ে দর্শকের নতুন নতুন বিনোদনের পথ উন্মুক্ত করার প্রতিযোগিতা শুরু করে। নেটফ্লিক্স, আমাজন প্রাইম ভিডিওসহ আরো কিছু স্ট্রিমিং সার্ভিসের পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোতে নতুন নতুন এ্যাপস যুক্ত হতে শুরু করে। অর্থাৎ ডিজিটাল বিনোদনের ক্ষেত্র বিস্তারে বিনিয়োগ বাড়তে শুরু করে।

আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর মতো ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বা সামাজিক মাধ্যম নয়, বিনোদনের নতুন ক্ষেত্র খুলে দিচ্ছে গেমিং। মেপল ক্যাপিটাল অ্যাডভাইজার্সের এমডি পঙ্কস কারনার দাবি, লকডাউনের সময়ে ভারতে গেমিং ব্যবসা ২১ শতাংশ বেড়েছে। সারা বছরে বাড়তে পারে ৩০-৪০ শতাংশ। কিছু সংস্থার গ্রাহক বেড়েছে ১০০ শতাংশেরও বেশি। গত মার্চ-ডিসেম্বরে এই ক্ষেত্রে ৩৫.৫ কোটি ডলারের (২৬০০ কোটি রুপি) প্রাইভেট ইকুইটি এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটালের লগ্নি এসেছে। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, সীমান্ত উত্তেজনার পর থেকে ২২০টি চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে ভারত। এই বাজারকে কাজে লাগাতে দেশীয় সংস্থার অ্যাপের চাহিদা বেড়েছে। তাদের পক্ষে নতুন লগ্নি জোগাড়ের পথও প্রশস্ত হয়েছে। গুগল, মাইক্রোসফটের মতো সংস্থার থেকে ১০ কোটি ডলার (৭৩০ কোটি রুপি) পুঁজি এনেছে ভার্সে ইনোভেশন। হিরো  মোটোকর্পের এমডি পবন মুঞ্জলের সংস্থার থেকে ৩০০ কোটি পেয়েছে শেয়ারচ্যাট। লগ্নি টানার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে কাগজ স্ক্যানার (৪ কোটি), বোলো ইন্ডিয়া (৩ কোটি), চিঙ্গারি (৯.৫ কোটি)।

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চলচ্চিত্র মুক্তিরও একটা নতুন পথ খুলে দিয়েছে। হলিউ, বলিউডের নির্মাতারা ছবি নির্মাণ করে লগ্নী বাক্সবন্দী না করে নেটফ্লিক্স এবং আমাজন প্রাইম ভিডিও স্ট্রিমিং সার্ভিস থেকে ছবি মুক্তি দিতে শুরু করেন। গত মঙ্গলবারে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, নেটফ্লিক্স এবছর ৭০টিরও বেশি ছবি মুক্তি দিতে চলেছে। যেগুলোর মধ্যে নামকরা অভিনেতা অভিনেত্রীর ছবির সংখ্যাও কম নয়। কমেডি, ড্রামা, অ্যাকশনসহ বিভিন্ন ঘরানার এসব ছবি অনলাইন মাধ্যমে মুক্তি দেওয়ার মাধ্যমে প্রমাণ হতে যাচ্ছে, মহামারীর সময়ে দর্শকরা এখন ঘরোয়া পরিবেশেই চলচ্চিত্র দেখতে অভ্যস্ত হচ্ছেন।

নেটফ্লিক্সের তালিকায় এই বছর মুক্তি পেতে যাওয়া ৬টি অ্যাকশন ছবির মধ্যে একটি হল ‘রেড নোটিশ’, যেটাতে অভিনয় করেছেন রায়ান রেনল্ডস, গাল গাদোত এবং ডয়েন জনসন (দি রক)। রয়েছে জ্যাক স্নাইডার’য়ের মতো পরিচালকের জম্বি ছবি ‘আর্মি অব দি ডেড’। প্রায় ডজনখানেক কমেডি ছবির মধ্যে একটি হল ‘ডোন্ট লুক আপ’, যেটাতে অভিনয় করেছেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, জেনিফার লরেন্স, টিমোথে শালামে, মেরিল স্ট্রিপ। অনলাইন মাধ্যমে শুধু নেটফ্লিক্স রাজত্ব করছে না। এই সেবায় অন্যদের মধ্যে এগিয়ে আছে ‘ওয়াল্ট ডিজনি কো’, ‘এটিঅ্যান্ডটি ইনকর্পোরেট’, ‘কমক্যাস্ট কর্পোরেশন’, ‘অ্যাপল ইনকর্পোরেট’। নেটফ্লিক্স যেখানে গড়ে একটি ছবি প্রতি সপ্তাহে মুক্তির তালিকায় রেখেছে সেখানে ডিজনি’র এই বছরে মুক্তির তালিকায় মোটামুটি দুই ডজন ছবি, যেগুলো সিনেমা হল-সহ মুক্তি দেওয়া হবে ডিজনি প্লাস’য়ে। এরমধ্যে রয়েছে চারটি মার্ভেল স্টুডিওর এবং দুটি পিক্সার’য়ের ছবি। এছাড়া মার্কিন অভিনেত্রী হ্যালি বেরি’র প্রথম পরিচালিত ছবি ‘ব্রুসড’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে নেটফ্লিক্স’য়ে।

শুধু হলিউড বা বলিউড নয়, একই দৃশ্য এদেশেও বিদ্যমান। উদ্যোগ নিয়েছেন অনন্য মামুন। দেশীয় এ্যাপস আইথিয়েটারের মাধ্যমে তিনি মুক্তি দিয়েছেন ‘নবাব এলএলবি’। ছবিটি নানা জটিলতার কারণে হয়তো প্রত্যাশিত ব্যবসা করবে না। কারণ ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শক যোগের কৌশল সম্পর্কে তেমন একটা অভিজ্ঞ নন কর্তৃক্ষ। তাই অনেকের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও দেখতে পারেননি। অবশেষে ছবিটি সেন্সরে দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এবার সিনেমা হলেই মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। লকডাউনে বাংলাদেশের সিনেমা হল বন্ধ ছিল ২১১ দিন। কিন্তু সিনেমা হল খোলার পর যেমন প্রত্যাশিত দর্শক পাওয়া যাচ্ছে না, তেমনি মুক্তি দেওয়ার ছবিও খুব একটা পাওয়া যাচ্ছে না। প্রযোজক পরিবেশক সমিতি থেকে জানানো হয়েছে, জানুয়ারি কেন সন্ত্রাসী নামে একটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। মুক্তি দেওয়ার মতো আর কোনো নতুন ছবি নেই। লকডাউনে কিছু শিল্পীর কাজ কলকাতার এ্যাপস হৈচৈ, জি ফাইভসহ আরো কিছু প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে।

লকডাউনের মধ্যে এদেশের দর্শক বেশি ঝুকেছে ইউটিউব চ্যানেলের দিকে। টিভি শিল্পীদের প্রায় সকলেরই কোনো না কোনো একটি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। তারা সাবস্ক্রাইবার সংগ্রহের জন্য প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে অনুরোধ পাঠান। এটা তাদের কাছে বিনোদন প্রদানের চাইতেও ব্যবসায়িক মাধ্যম হিসেবে বেশি পরিগণিত। কিন্তু ব্যবসায়িক মাধ্যম হিসেবে ইউটিউবের সমৃদ্ধি ঘটলেও এটা এখন হয়ে উঠেছে বিনোদন সম্ভারও। এখানে সব ধরনের বিনোদনই পাওয়া যায়। ঢাকার একজন নির্মাতা জানালেন, তিনি ইউটিউবের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন। ছবির বাজেট ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার মধ্যে। তবে ইউটিউবে ইতোমধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভিডিও গেমিং। তার উপরে শিক্ষা ও বিনোদনমূলক কনটেন্ট দেখার পাশাপাশি নিজেরাই ভিডিও তৈরি করে বাকিদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছে নতুন প্রজন্ম। এটাকে কাজে লাগাচ্ছে প্রযুক্তি সংস্থাগুলো। পরিচালক এফআই মানিক বলেন, ‘দর্শক সিনেমা হলে আসছে কম। ডিজিটাল বিনোদন চলচ্চিত্রের জন্য কোনো অন্তরায় নয়। সিনেমা হলকে ডিজিটাল বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। তাহলেই চলচ্চিত্রকে বাঁচানো যাবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর